ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ , ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদে ঘুরে আসতে পারেন উত্তরের জীবনরেখা তিস্তায়

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১০-০৩-২০২৬ ০৫:৪৯:২০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১০-০৩-২০২৬ ০৫:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন
ঈদে ঘুরে আসতে পারেন উত্তরের জীবনরেখা তিস্তায় ফাইল ছবি
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বিনোদনের খোঁজে দেশের অন্যতম বৃহৎ সেচ প্রকল্প ও দর্শনীয় স্থান তিস্তা ব্যারাজে মানুষের ঢল নামে। ঈদের খুশী ভাগাভাগি করে নিতে ঈদের নামাজ শেষ করে অনেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে যান তিস্তা ব্যারেজে। লালমনিরহাট ও নীলফামারী দুই জেলার সংযোগস্থল তিস্তা ব্যারেজে ভীর জমে হাজারো পর্যটকের। তবে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমের বিপরীতে পর্যাপ্ত শৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায় কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

পরিবেশ ও আবহাওয়া
তিস্তা ব্যারেজ দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্পগুলোর একটি এবং একইসঙ্গে উত্তরাঞ্চলের জনপ্রিয় পর্যটনস্থল। তিস্তা ব্যারেজ এলাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর কৃত্রিম জলরাশি, সেচ খাল, বনায়ন, পাথর বাঁধানো পাড় মিলিয়ে মনোরম পরিবেশ তৈরি হয়। এখনো ভোরে কিছুটা শীতের আমেজ থাকায় এখানে অতিথি পাখিরও আগমন ঘটে। ১৯৯০ সালে তিস্তা নদীতে নির্মিত ব্যারেজটি পানি নিয়ন্ত্রণ, যাতায়াত ও পর্যটনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। তবে ঈদের সময়ে মার্চ মাসের শেষ দিক হওয়ায় নদীতে তেমন পানি থাকে না। উত্তরাঞ্চলে গরম শুরু হলেও আবহাওয়া তুলনামূলক শুষ্ক থাকে। তিস্তা নদীর বালুচর আর ব্যারেজের পাশে  পানি তৈারি করবে এক অপরুপ সৌন্দর্য।

যেভাবে যাবেন
বিভাগীয় শহর রংপুর থেকে দুই জেলা নীলফামারী ও লালমনিরহাট হয়ে যাওয়া যাবে তিস্তা ব্যারেজে। তবে রংপুর থেকে নীলফামারীর ডিমলায় বাস যোগাযোগ থাকায় এদিক দিয়ে যাওয়ায় খরচ কম হওয়ার পাশাপাশি দ্রুত সময়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে। রংপুর থেকে দুপুরে ছেড়ে আসা বাস পাগলাপীর হয়ে যায় জলঢাকা উপজেলায়। সেখান থেকে আবার সরাসরি যায় ডিমলার চাপানি বাজারে, সেখান থেকে তিস্তা ব্যারেজের দূরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার। তবে জলঢাকা উপজেলার আবু সাঈদ চত্বর থেকে সিএনজিতে সরাসরি যাওয়া যাবে তিস্তা ব্যারেজে। সরাসরি বাস কিংবা সিএনজিযোগে যেতে হবে হাতিবান্ধা উপজেলায়। সেখানে ব্যাটারিচালিত অটোযোগে যেতে হবে দোয়ানী বাজার। সেই বাজার থেকে তিস্তা ব্যারেজের দূরত্ব মাত্র দুই কিলোমিটার।  রংপুর বিভাগের বাইরের পর্যটকরা নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের সঙ্গে সারা দেশের বিমান, সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগ রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কক্সবাজার থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিমানযোগে কিংবা রেলপথে পৌঁছে সেখান থেকে যেতে হবে নীলফামারী সদর উপজেলায়। আবার সদর উপজেলা থেকে আনন্দবাবুর পুল হয়ে সিএনজি যোগে যেতে হবে জলঢাকা উপজেলায়। সেখানে গিয়ে সিএনজি কিংবা বাসে পৌঁছানো যাবে উত্তরের জীবন রেখা তিস্তায়।

খাবারের ব্যবস্থা
তিস্তা ব্যারেজের আশপাশে ঈদকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান গড়ে উঠে। এসব দোকানে সাধারণত ভাত তরকারি, ডাল, ভাজি, দেশি মাছ, চা, নাস্তা ও ঠান্ডা পানীয় পাওয়া যায়। যেখানে পিঠা, ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুডও বিক্রি হয়। তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে খাবারের সহজলভ্যতা থাকলেও উন্নতমানের রেস্টুরেন্ট বা পরিবার নিয়ে বসে খাওয়ার মতো পরিচ্ছন্ন পরিবেশের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে দুপুরের সময় ভিড় বাড়লে খাবার শেষ হয়ে যাওয়া বা দেরিতে পরিবেশন হওয়ায় কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

নিরাপত্তা ও ফটোসেশন
তিস্তা ব্যারেজে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নদীর বিস্তৃত জলরাশি ঘিরে ছবি তোলার আকর্ষণে দূরদূরান্ত থেকে পর্যটক আসেন। বিকেল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত, বিশেষ করে নদীর পাড়, স্লুইস গেট ও ব্যারেজের ওপর দাঁড়িয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা যায়। সেখানে ক্যামেরায় ছবি তোলার জন্য ভ্রাম্যমাণ ফটোগ্রাফার রয়েছে। তিস্তা ব্যারেজে পর্যটকের চাপ বাড়লে যানজট, ভিড় ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা টহল দেন এবং দর্শনার্থীদের সতর্ক করেন।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ